বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’ ও ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় মারামারি হয়। হাসপাতালে এই সংঘর্ষের জেরে জরুরি বিভাগে দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হলেও, পরে আবারও হামলার কারণে তা ব্যাহত হয়। এ সময় প্রাণভয়ে চিকিৎসক ও রোগীদের দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়।
জানা যায়, প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশের মশাল মিছিল চলাকালে এই সংঘর্ষের শুরু হয়। দলটির আহত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানার অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ন মিছিলে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে দলটির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীসহ অন্তত ৬ জন আহত হন। পরে তারা ঢামেকে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও ২০-২৫ জন তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। বর্তমানে তারা জরুরি বিভাগে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসা নিতে পারছেন না বলে জানান শান্তা। অন্যদিকে আহত আয়াসের দাবি, নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতারা শহীদ আবু সাঈদকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলায় এবং ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় তারা এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তখন শান্তা ফারজানা ও মোমিন মেহেদীর নেতৃত্বাধীন ৩০-৪০ জন তাদের ওপর হামলা করে এবং ঢামেকেও পুনরায় হামলার চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান ‘মঞ্চ-২৪’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ আবু সাঈদ ও ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারীদের এই ‘নতুন বাংলাদেশে’ ছাড় দেওয়া হবে না। তবে তারা কোনো আগ্রাসী আচরণ না করে প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন বলে জানান। এদিকে ঢামেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে তিনি জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












