জেলা প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর অতর্কিত হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় জেলা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক ৮ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা।
মামলায় নাম উল্লেখ থাকা আসামিরা হলেন:
শাহেদ আহম্মেদ (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক)
ইমরান হোসেন (জেলা ছাত্রদলের সভাপতি)
এস এম সমিনুজ্জামান সমিন (জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি)
শাহরিয়ার রাসেল (সাধারণ সম্পাদক)
নয়ন হাওলাদার (সাবেক সহ-সভাপতি)
মোবারেক হোসেন ইমন (পৌর ছাত্রদলের সভাপতি)
হাদু (সাবেক যুগ্ম সম্পাদক) ও অন্যান্য।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরোনো ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা এ সময় কিল-ঘুষি ও ইটপাটকেলের পাশাপাশি জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট এবং ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়।
এই হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ এবং অয়ন রহমান খানসহ এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
মারধরের পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়েরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে দাবি করা হয়, হামলার সময় একটি সনি আলফা এ-৬৪০০ মডেলের ডিএসএলআর ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ডসহ যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সেটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ লুট করে হামলাকারীরা।
পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও এনসিপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা এনসিপি নেতাদের হত্যার হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




