আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু কুরবানি বা বলিদানের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচার নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যটির মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতে থাকতে হলে দেশের নিয়ম মেনেই চলতে হবে, অন্যথায় হুমায়ুন কবীর অন্য কোনো মুসলিম দেশে চলে যেতে পারেন।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রকাশ্যে পশুবলি ও কুরবানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৩ মে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়। আর এই নির্দেশিকা ঘিরেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ মে পালিত হতে যাচ্ছে মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে এমন নিষেধাজ্ঞায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
প্রকাশ্যে কুরবানি নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা ও মুর্শিদাবাদে বাবরী মসজিদ নির্মাণের দাবি তোলা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “রাজ্যের প্রায় ৩৭ শতাংশ মুসলিম গরুর মাংস খায়। প্রশাসন যদি কুরবানি বন্ধ করতেই চায়, তবে রাজ্যের সব কসাইখানাও বন্ধ করে দেওয়া উচিত।” তাঁর মতে, কুরবানি একটি ধর্মীয় প্রথা এবং হাজার বছর ধরে চলে আসা এই আচার হঠাৎ করে কোনো প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে বন্ধ করা যায় না।
বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের এমন মন্তব্যের পরই পাল্টা তোপ দাগেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “হুমায়ুন কবীর যদি পশ্চিমবঙ্গে থাকতে চান, তাহলে তাঁকে অবশ্যই সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।” ক্ষুব্ধ কণ্ঠে অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “যদি সেই নিয়ম মানতে তাঁর আপত্তি থাকে, তাহলে তিনি যেখানে খুশি চলে যেতে পারেন। তাঁর জন্য অন্য কোনো মুসলিম দেশে যাওয়ার পথও খোলা আছে।”
অগ্নিমিত্রা পালের এই মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নতুন করে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



