বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুবাই পুলিশ নতুন করে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। সেই প্রশ্নগুলোর জবাব প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুতই দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই পুলিশ গ্রেফতার করার পর বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আবারও চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকে এসেছে। বর্তমানে তদন্ত কর্মকর্তা সেসব তথ্য প্রস্তুত করছেন এবং শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেগুলোর জবাব দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
চিঠিতে কী ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে আক্তারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তসংশ্লিষ্ট হওয়ায় তা এখনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। দুবাই পুলিশ যেসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা কেবল সেসব তথ্যই প্রস্তুত করছেন।
এর আগে দুবাই পুলিশ নীতিগতভাবে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সম্মতি জানায়। প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দেয় তারা। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা, পুলিশ এবং দুদক যৌথভাবে এ বিষয়ে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও দুবাইয়ের পাঠানো চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। দুবাই পুলিশ বাংলাদেশের পাঠানো চিঠির জবাবে কিছু সাধারণ নথিপত্র ও তথ্য চেয়েছে। সেগুলো দুদক থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে এবং দুবাই পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। দুদকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলেই তা তাদের কাছে পাঠানো হবে। এতে খুব বেশি সময় লাগবে বলে মনে করছে না সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক হওয়ার বিষয়টি এর আগে জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগে ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবিতে অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠিয়েছিল দুদক। ওই নথিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি দলিল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাংলাফ্লো/এফআইআর












