আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যটিতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে গত এক সপ্তাহে আসামে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছাল ৩১ জনে।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইস্যু করা এক বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে আসাম রাজ্য সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)। বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলার ৮৭২টি গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে আছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তিন জেলার মানুষ—শিবসাগর (ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন), চারাইদেও (ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৪১৫ জন) এবং জোরহাট (ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ হাজার ৯৮৭ জন)।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র, বুরহিদিহিং, দিসাং ও ধানসিঁড়িসহ আসামের প্রায় সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আপার আসামের অনেক আবাসিক এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যায় অন্তত ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে এবং সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সিমালুগুড়ি শহর ও তার আশপাশে ব্যাপক বন্যার কারণে সিমালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং সিমালুগুড়ি-সেলেরঘাট সেকশনে ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছে ভারতের নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (এনএফআর)।
উপদ্রুত এলাকাগুলোতে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে ভারতের কেন্দ্রীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্যের এসডিআরএফ, সেনাবাহিনী এবং দমকল কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল কাজ শুরু করেছে। এএসডিএমএ-র উদ্যোগে উপদ্রুত জেলাগুলোতে মোট ১০১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৯ হাজার ৬০৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতে আজ বুধবার তিনি চারাইদেও, নাজিরা, শিবসাগর, সোনারি, জোরহাট এবং তিওক সফর করবেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর












