বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সফরকালে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় ও প্রভাবশালী থিংক ট্যাংকের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।”
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ওয়াশিংটনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স (এসসিএ)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গেও একটি বিশেষ বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোর শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সামনে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বিএনপি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। দীর্ঘ বছর পর বাংলাদেশের মানুষ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে পেয়েছে।”
জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত নতুন বিএনপি সরকারের কার্যকর বিদেশ নীতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সংস্কারমূলক কার্যক্রম বিশ্বমঞ্চে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিএনপির অন্যতম প্রধান স্লোগান ও নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন:
“বিএনপি সরকার তথা আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার নীতি খুব পরিষ্কার। যেকোনো বৈশ্বিক সমীকরণ বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে প্রথমে এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের জাতীয় স্বার্থ। দেশের মানুষের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এমন অটুট প্রতিশ্রুতি দিয়েই বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। এই অবস্থান থেকে বর্তমান বিএনপি সরকার কখনোই একচুলও সরে যাবে না।”
বাংলাদেশ সরকারের এই নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






