আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: রাশিয়ার কাছ থেকে ঐতিহ্যগতভাবে সমরাস্ত্র কেনার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনছে ভারত। ৪২ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ের এই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট) সোমবার (১৮ ১৮) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র: এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মূলত দুই ধরনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি কিনছে ভারত। এগুলো হলো— এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে (AH-64E Apache) অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং এম-৭৭৭ এ২ আলট্রা-লাইট হাউইৎজার (M777A2 Ultra-Light Howitzer) ক্ষেপণাস্ত্রবাহী কামান ব্যবস্থা। সম্পূর্ণ সামরিক সরঞ্জামগুলো মোট দুটি আলাদা চালানে ভারতে পাঠানো হবে।
মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে চীনের সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য অতীব কার্যকর এম-৭৭৭ এ২ আলট্রা-লাইট হাউইৎজার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী কামান ও এর আনুষঙ্গিক খাতের জন্য। এই অর্থের মধ্যে কামানের মূল বডি, ক্ষেপণাস্ত্র, স্পেয়ার পার্টস, যুদ্ধকালীন মেরামত, ভারতীয় সেনাসদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, ফিল্ড সার্ভিস, ডিপো সক্ষমতা এবং লজিস্টিক ও প্রোগ্রাম সাপোর্টের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির বাকি ১৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার দিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও বিধ্বংসী ‘অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ কিনছে ভারত। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে ভারত ঠিক কয়টি হেলিকপ্টার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাচ্ছে, তা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ভারত নিজেদের সামরিক শক্তির সিংহভাগ এবং কৌশলগত সমরাস্ত্রের জন্য রাশিয়ার (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) ওপর এককভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে বসার পর থেকেই সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন অস্ত্রের বাজার বাড়াতে এবং ভারতকে মস্কোর অক্ষ থেকে দূরে সরাতে নয়াদিল্লির ওপর তীব্র রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করেন। মার্কিন প্রশাসনের সেই ধারাবাহিক ও জোরালো চাপের জেরেই শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে এই বিপুল অস্ত্রের ফরমায়েশ দিতে বাধ্য হয়েছে মোদি সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই চুক্তির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে:
“এই প্রস্তাবিত সামরিক বিক্রয় মার্কিন-ভারত দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। একই সাথে ওয়াশিংটনের একটি প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদারের জাতীয় নিরাপত্তা উন্নত করার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যকে সরাসরি সমর্থন করবে। ভারত আমাদের এমন একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার, যে ইন্দো-প্যাসিফিক এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ভূরাজনৈতিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরাশক্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত উত্তেজনা এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটনের চাপ— এই দুই সমীকরণ মেলাতেই রাশিয়ার অন্যতম পুরনো মিত্র ভারত এখন মার্কিন অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নতুন মোড়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






