বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুণ্ঠনে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি নিজেও জাতিসংঘ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমেরিকা সফরে গিয়ে একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে জানান আখতার হোসেন। বিদেশে জুলাই আন্দোলনে যুক্ত সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর এমন হামলার বিচার নিশ্চিতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর নগ্ন হামলা। তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইতালির ভেনিস শহরের একটি পার্কে আজমেরী হক বাঁধন তার ভাই, বোন ও সন্তানকে নিয়ে অবস্থানকালে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার তার ওপর অতর্কিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালায়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ইতালীয় পুলিশ প্রশাসন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ইতালির পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, দেশের জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী ও গণহত্যায় জড়িত পলাতক আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। শেখ হাসিনাসহ যেসব সন্ত্রাসী বিদেশে আশ্রয় নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সবাইকে আইনের দীর্ঘ হাত ব্যবহার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানের কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সি গ্রহণসহ বাংলাদেশ এখন অন্যতম শক্তিশালী ও কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনো পরাশক্তির দাসত্ব বা গোলামি করবে না, বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাধীন গতিতে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বুকে একটি স্বকীয় প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












