লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ব্যস্ত নাগরিক জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভর করেন। মাঝে মাঝে এসব খাবার খাওয়া নিরীহ মনে হলেও, এটি যখন প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন তা শরীরের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নিয়মিত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
যাঁরা নিয়মিত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেন, তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আর এই তিনটি সমস্যাই কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই লবণ শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে, যা শেষ পর্যন্ত উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি করে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।
এটি কেবল চিকিৎসকদের সাধারণ মতামত নয়, গবেষণাতেও এর প্রমাণ মিলেছে। ‘আমেরিকান জার্নাল অব কিডনি ডিজিজেস’-এ প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনি রোগ নেই এমন ১৪ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে গড়ে ২৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে প্রায় ৫ হাজার অংশগ্রহণকারী ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে (CKD) আক্রান্ত হন। গবেষণাটি স্পষ্ট করেছে যে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। পাশাপাশি, ‘রেনাল ফেইলিওর’ জার্নালে প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, যাঁরা সর্বোচ্চ মাত্রায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেন, তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হওয়ার আপেক্ষিক ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি থাকে।
লবণ ছাড়াও এসব খাবারে আরেকটি লুকানো ঝুঁকি হলো ‘ফসফেট অ্যাডিটিভ’, যা প্যাকেটজাত খাবারে অহরহ ব্যবহৃত হয়। উদ্ভিদজাত খাবারে উপস্থিত প্রাকৃতিক ফসফরাসের চেয়ে এই কৃত্রিম ফসফেট অ্যাডিটিভ শরীরে খুব দ্রুত শোষিত হয়। যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সামান্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ, দুর্বল কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত ফসফরাস বের করে দিতে পারে না, ফলে ‘হাইপারফসফেটেমিয়া’র ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া পটাশিয়ামের মাত্রার দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে হাইপারক্যালেমিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে।
তবে কি প্যাকেটজাত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারে শতভাগ এড়িয়ে চলা হয়তো সম্ভব নয়, তবে এটিকে কোনোভাবেই রোজকার খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তি বানানো যাবে না। প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে লেবেল পড়ে লবণ ও চিনির মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার কমিয়ে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যতটা সম্ভব টাটকা ও প্রাকৃতিক খাবারকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












