বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: ভারতীয় টেলিভিশন ও বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাম কাপুর সম্প্রতি তার জীবনের এক অবিশ্বাস্য ও হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’-এর দ্বিতীয় সিজনের সাম্প্রতিক এক পর্বে তিনি স্বীকার করেছেন যে, বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তিনি তার মৃত্যুর পরিকল্পনায় সাহায্য করেছিলেন।
রাম কাপুর জানান, তার বাবার বয়স যখন ৭৩ বছর, তখন দ্বিতীয়বারের মতো তার অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার (প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার) ধরা পড়ে। এর আগে ৬৩ বছর বয়সে প্রথমবার ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর তাকে ১৮ বার কেমোথেরাপি নিতে হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারির সময় ক্যানসারটি পুনরায় ফিরে এলে তার বাবা আর নতুন করে কোনো চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে চাননি।
কঠিন সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে অভিনেতা বলেন, ‘আমি আমার বাবাকে তার মৃত্যুর পরিকল্পনা করতে সাহায্য করেছিলাম। কোভিডের সময় তার ক্যানসার আবার ফিরে আসে। তিনি আমার স্ত্রী গৌতমী কাপুরকে ফোন করে জানান যে, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। ফোনে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়। মূলত, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে এই রোগের বিরুদ্ধে তিনি আর লড়াই করতে চান না।’
রাম কাপুর আরও যোগ করেন, ‘বাবা চলে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু একা যেতে ভয় পাচ্ছিলেন। তিনি বিষয়টি কাউকেও জানাতে চাননি, তবে চেয়েছিলেন আমি যেন তার পাশে থাকি। তিনি সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন—‘তুমি কি আমাকে মরতে সাহায্য করতে পারবে?’ তিনি আমাকে বুঝিয়েছিলেন যে আমি সাহায্য না করলে তিনি একাই এটি করবেন; ফলে আমার কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না।’
বাবার কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন এই অভিনেতা। জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি তার বাবার পাশেই ছিলেন। সেই মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যখন তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল, আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। কেউ জানত না যে সেখানে আসলে কোনো চিকিৎসা হচ্ছিল না। তিনি শুধু চেয়েছিলেন আমি যেন তার হাত ধরে রাখি এবং তাকে শান্তিতে চলে যেতে সাহায্য করি। তিনি একা থাকতে ভয় পেতেন, কিন্তু মৃত্যুকে ভয় পাননি। তিনি চেয়েছিলেন তার শেষকৃত্যে যেন কেউ না কাঁদে।’
তবে বাবার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাহায্য করার কারণে পরিবারে চরম প্রভাব পড়েছে বলে জানান রাম কাপুর। তিনি বলেন, ‘আমার মা এবং বোন এখনো আমার সঙ্গে কথা বলেন না। প্রায় ৫ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি, একজন সন্তান তার বাবা-মায়ের জন্য যা করতে পারে, এটি তার মধ্যে অন্যতম সেরা কাজ। কারণ সবাই বাঁচে রাজার মতো, কিন্তু আমার বাবা রাজার মতোই মৃত্যুবরণ করেছেন।’
এই মর্মস্পর্শী ঘটনার পর নিজের ভেতরের শক্তির কথা উল্লেখ করে কথা শেষ করেন অভিনেতা। তিনি জানান, মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখার পরই তিনি জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে পেরেছেন এবং এখন তিনি আর মৃত্যুকে ভয় পান না।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












