বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: ভেন্যু সংক্রান্ত প্রস্তুতির অভাব, ঘন ঘন সময় পরিবর্তন, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা এবং শেষ মুহূর্তে উদ্ভট সব বিধিনিষেধ— সব মিলিয়ে পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের ঢাকা কনসার্ট ঘিরে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেট’-এর বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের পাহাড় জমেছে। রাজধানীর ১০০ ফিট সংলগ্ন কোর্টসাইডে আয়োজিত এই কনসার্টকে কেন্দ্র করে সাধারণ শ্রোতাদের মাঝে চরম তিক্ততা দেখা গেছে।
বর্ষাকালে খোলা মাঠে কনসার্টের আয়োজন করলেও বৃষ্টি থেকে দর্শকদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত শেড বা ক্যানোপির কোনো ব্যবস্থা করেনি আয়োজক কর্তৃপক্ষ। উল্টো অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে ‘রেইন অ্যালার্ট’ দিয়ে দর্শকদের ছাতা না এনে রেইনকোট সঙ্গে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। আয়োজকদের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন টিকিট কেনা দর্শকেরা।
কনসার্ট ভেন্যুতে বড় ব্যাগ নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, অন্যদিকে ছাতাও আনা যাবে না— এমন পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে দর্শকেরা রেইনকোট কীভাবে বহন করবেন বা কোত্থেকে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। আয়োজকদের এমন অব্যবস্থাপনাকে দর্শকেরা সামাজিক মাধ্যমে “হাস্যকর নাটক” ও চরম অপেশাদারত্ব বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শুধু রেইনকোট বিতর্কেই শেষ নয়; ভেন্যুর গেট খোলার সময় ও শিডিউল ঘন ঘন পরিবর্তন করায় চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা। অফিশিয়াল পেজে মুহূর্তের মধ্যে একেক রকম আপডেট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শ্রোতারা মন্তব্য বাক্সে তাদের ক্ষোভ ঝাড়ছেন। আয়োজকদের এমন এলোমেলো পদক্ষেপে আদৌ শেষ পর্যন্ত সঠিকভাবে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আতিফ আসলামের প্রেস কনফারেন্স ঘিরেও বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয় এই আয়োজক প্রতিষ্ঠান। মূলধারার প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ইউটিউবারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকেরা ঘটনার প্রতিকার বা সঠিক তথ্যের জন্য বারবার আয়োজকদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। গণমাধ্যমকে এভাবে অবজ্ঞা করার বিষয়টি বিনোদন অঙ্গনের পেশাদারত্বের জন্য একটি “কলঙ্কজনক নজির” হিসেবে দেখছেন সংবাদকর্মীরা।
আরও অভিযোগ উঠেছে, আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেট’-এর অন্যতম দায়িত্বে থাকা আনন্দ চৌধুরী নামের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও ‘অ্যাসেন কমিউনিকেশন’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। পুরোনো বিতর্ক চাপা দিতে নতুন পরিচয়ে এসে তারা আবারও একই ধরনের বিশৃঙ্খলা ও চরম অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি করছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল।
এত সকল গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর আনন্দ চৌধুরীর সঙ্গে আলাদা করে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া ‘মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেট’-এর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করে তাদের কোনো সাড়া মেলেনি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









