বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি ছড়াতে থাকে। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা ডিজিটাল কারসাজির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ভিডিওটি আসল।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাস দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর (মাকছুদা বেগম) সম্মতিতে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
ফেসবুক পোস্টে এমপি অভিযোগ করেন, গত ১৩ জুলাই দুই স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান তিনি। সেখানে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ ৫-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে ঢোকেন এবং তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন। এমপি বলেন, “ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরেই সে আমাদের ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।” এমনকি পরবর্তীতে তাদের ভাড়াগাড়ি আটকে রেখেও দফায় দফায় চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করেছিল, এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও। তবে রিউমর স্ক্যানার আজ নিশ্চিত করেছে যে, ভিডিও এবং অডিও বিশ্লেষণে কোনো অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে, যদিও ঘটনাস্থল নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণীর বয়স ১৮ বছরের কিছু বেশি এবং তিনি ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আজিজুর রহমানও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। কারা এই ভিডিও ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর










