আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে যথাযথ ফিটনেস সার্টিফিকেট বা সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না বলে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের বেঙ্গল আইন এবং ২০১৮ সালের কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের বরাত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এই কঠোর নোটিশ জারি করেছে।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, পৌরসভার প্রধান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দেওয়া ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সার্টিফিকেটে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি ভেটেরিনারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে।
যেকোনো পশু জবাইয়ের অনুমতি পেতে হলে মালিককে প্রমাণ করতে হবে যে পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং এর প্রজনন বা কর্মক্ষমতা আর অবশিষ্ট নেই। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বয়সের এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। যদি কোনো পশু চলাফেরায় অক্ষম হয়, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়, অঙ্গবিকৃতি ঘটে অথবা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়, তবে সার্টিফিকেট নিয়ে ১৪ বছর হওয়ার আগেই সেটি জবাই করা সম্ভব হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাস্তার ধারের সব অস্থায়ী কসাইখানা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এখন থেকে কেবল পৌরসভা বা স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত কসাইখানায় পশু জবাই করা যাবে। কেউ যদি এই আইন অমান্য করে অনুমতি ছাড়া পশু জবাই করেন, তবে ১৯৫০ সালের আইন অনুযায়ী তাঁকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ১ হাজার রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
যদি কোনো পশুর মালিক বা কসাই মনে করেন যে তাঁদের যৌক্তিক আবেদনের পরও সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না, তবে তাঁরা ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের মাংস ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






