লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শীতের সকাল মানেই লেপের উষ্ণতা ছেড়ে উঠতে অনীহা এবং দিনভর এক ধরনের ক্লান্তিভাব। ছুটির দিনে মনে হয় সারা দিন শুয়ে থাকলেই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের আবহাওয়া আমাদের শরীরের স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল ক্লককে প্রভাবিত করে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো সূর্যালোকের অভাব। শীতে সূর্যের আলো কম থাকায় শরীরে ‘সেরোটোনিন’ নামক ফিল-গুড হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং ঘুমের জন্য দায়ী ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। ফলে মন খারাপ, ঝিমুনি ভাব এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার ক্ষেত্রে তীব্র আলস্য কাজ করে।
এছাড়া শীতকালে কায়িক পরিশ্রম বা নড়াচড়া কমে যাওয়ায় রক্ত সঞ্চালন ও মেটাবলিজম মন্থর হয়ে পড়ে। শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে বাড়তি শক্তি ব্যয় করে বলে সহজেই ক্লান্তি ভর করে। খাদ্যাভ্যাসেও আসে পরিবর্তন; ভারি ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হলেও পানি পান কমে যায়, যা ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার সৃষ্টি করে শরীরকে আরও ভারি করে তোলে। দীর্ঘ রাত ও কম্বলের উষ্ণতা ঘুমের রুটিন বদলে দেয়, ফলে অতিরিক্ত ঘুমেও শরীর চাঙ্গা হওয়ার বদলে উল্টো অবসন্ন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসকরা আরও সতর্ক করছেন ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি নিয়ে। শীতে পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ায় শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়, যার ফলে পেশি দুর্বলতা, হাড় ও কোমরে ব্যথা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এই ভিটামিনের অভাবে মানসিক হতাশা ও এনার্জির ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। তাই শীতের আলস্য কাটাতে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং যতটা সম্ভব গায়ে রোদ লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






