লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ফলমূল সাধারণত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচিত হলেও, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে সব ফল শরীরের জন্য উপকারী নয়। বিশেষ করে শীতকালে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড চলাকালীন নারীদের খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে কিছু নির্দিষ্ট ফল খাওয়া এড়িয়ে চললে পিরিয়ডকালীন তীব্র ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া), পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
পিরিয়ডের সময় ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের প্রভাবে শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে পানি ধরে রাখা, হজম প্রক্রিয়া এবং শরীরের তাপমাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যন্ত্রণাদায়ক পিরিয়ডকে ‘ডিসমেনোরিয়া’ বলা হয়, যা জরায়ুর পেশী সংকোচনের ফলে হয়। শীতকালে খুব ঠান্ডা, অতিরিক্ত মিষ্টি বা অ্যাসিডিক ফল এই ব্যথা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শীতে যে ৫টি ফল এড়িয়ে চলবেন:
১. আনারস: আনারসে ‘ব্রোমেলেন’ নামক একটি এনজাইম থাকে। এটি জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে দিতে পারে, যা অনেকের ক্ষেত্রে জরায়ুতে মারাত্মক ক্র্যাম্প বা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২. পেঁপে: বিশেষ করে আধা-পাকা পেঁপে জরায়ুর কার্যকলাপকে উদ্দীপিত করতে পারে। পিরিয়ডের সময় এই ফল বেশি খেলে পেট ফাঁপার সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
৩. আঙুর: শীতকালীন এই সুস্বাদু ফলটিতে উচ্চমাত্রায় ফ্রুক্টোজ থাকে। এটি পিরিয়ড চলাকালীন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রকে জ্বালাতন করে পেট ফাঁপা বাড়িয়ে দেয়।
৪. সাইট্রাস ফল: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হলেও শীতকালে পিরিয়ডের সময় লেবুজাতীয় বা সাইট্রাস ফল এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলোর অ্যাসিডিক প্রকৃতি শরীরে অ্যাসিডিটি তৈরি করতে পারে, যার ফলে বমি বমি ভাব ও পেট ব্যথা বাড়তে পারে।
৫. নাশপাতি ও আপেল: এই ফলগুলো সরাসরি ক্ষতিকর না হলেও, এদের ঠান্ডা প্রকৃতি বা ফ্রিজে রাখার পর খাওয়া সমস্যা তৈরি করতে পারে। শীতের সময় ঠান্ডা আপেল বা নাশপাতি খেলে হজমশক্তি ব্যাহত হয় এবং পেট ফাঁপার সৃষ্টি করে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






