জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ: সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নিত্যপণ্যে স্বস্তি ও কল্যাণমুখী উদ্যোগ জনগণের সরকার হিসেবে বিএনপির দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি আপনারা এই দেশে ধানের শীষ তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে সহযোগিতা করেছেন। যেহেতু এই সরকার জনগণের সরকার, সেহেতু বিএনপি জনগণের জন্যই কাজ করছে। এই কাজগুলো করলে জনগণের পেটে অন্নের সংস্থান হবে।”
সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর বর্তমান সরকার ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে এসব পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে। বাজেটের পর যেন জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে, জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বড় ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে গুরুতর অসুস্থতা ছাড়া সাধারণ চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে আর জেলা হাসপাতালে ছুটতে হবে না।
বিরোধীদের সমালোচনা ও ‘সংস্কার’ প্রসঙ্গ অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দিকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে, এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা দেখেছি ’৭১, ’৮৬ এবং ’৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাদেরকে আমরা রাজপথে দেখিনি। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে এবং সংস্কারের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তারা তখন কোথায় ছিল?”
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “এই দেশে সবচেয়ে প্রথম সংস্কার প্রস্তাবনা বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ২০২২ সালে। এখন সময় এসেছে দেশকে স্থিতিশীল রাখার, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান দিলে চলবে না।”
উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আগে বিকেল ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত ১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন প্রমুখ।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










