লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শীতের রাতে লেপের তলায় শরীর গরম থাকলেও অনেকের পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকে। আরাম পেতে অনেকেই পায়ে মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলেন। মা-বাবার কাছ থেকেও হয়তো শুনেছেন, “মোজা পরে ঘুমাও।” কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সাময়িক আরাম দিলেও নিয়মিত ও ভুল পদ্ধতিতে মোজা পরে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
মোজা পরে ঘুমানোর ৫টি স্বাস্থ্যঝুঁকি:
১. রক্ত সঞ্চালনে বাধা: অনেকের ধারণা মোজা পরলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। কিন্তু মোজা যদি খুব টাইট বা ইলাস্টিক কড়া হয়, তবে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। দীর্ঘ সময় টাইট মোজা পরে থাকলে পায়ের শিরায় চাপ পড়ে এবং স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে।
২. ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি: নাইলন বা সিনথেটিক কাপড়ের মোজা বাতাস চলাচল করতে দেয় না। ফলে পায়ের ঘাম ভেতরেই জমে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক তৈরির আদর্শ পরিবেশ। এর ফলে পায়ে চুলকানি, দুর্গন্ধ এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৩. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি: ঘুমানোর সময় প্রাকৃতিকভাবে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু বাতাস চলাচল করে না এমন মোজা পরলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।
৪. অনিদ্রার কারণ: টাইট মোজা পরে ঘুমালে মাঝরাতে অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অস্বস্তি অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৫. অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস: অনেকে সারাদিন পরে থাকা মোজা না ধুয়েই রাতে পরে ঘুমান। এতে মোজায় লেগে থাকা ধুলোবালি ও জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ত্বকের নানা অসুখ ডেকে আনে।
তাহলে কি মোজা পরাই যাবে না? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, মোজা পরা একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে কিছু শর্ত মানতে হবে:
সঠিক উপাদান: সিনথেটিক নয়, বাতাস চলাচল করতে পারে এমন সুতি বা উলের মোজা ব্যবহার করুন।
ফিটিং: মোজা অবশ্যই ঢিলেঢালা হতে হবে, যেন পায়ে কোনো চাপ না পড়ে।
পরিচ্ছন্নতা: ঘুমানোর জন্য এক জোড়া আলাদা ও পরিষ্কার মোজা রাখুন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






