আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি ৭ মাত্রার অধিক বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকার। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিশেষ ভাষণে প্রেসিডেন্ট নিজেই এই ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বহু মানুষের হতাহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল, যেখানে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার রয়েছে। বুধবার স্পেনের একসময়ের উপনিবেশ এই দেশটিতে সরকারি ছুটি ছিল এবং বাসিন্দারা সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস ও জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন। সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। পাহাড়ের ঢালে থাকা বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্যও সামনে এসেছে, যেখানে আতঙ্কিত মানুষজন তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণী নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তিতে তৈরি না হওয়ায় এই দুর্যোগ সামনে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউএসজিএস। দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে। এছাড়া আরও অসংখ্য ভবন ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে থাকায় উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং কারাকাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




