স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: টেস্ট অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিদেশি কোচদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। প্রধান কোচ থেকে শুরু করে ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিং—সব বিভাগেই নামীদামি বিদেশি কোচ নিয়োগ দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য খুব একটা দেখা যায়নি। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দেশি কোচদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে দেশি কোচদের চমকপ্রদ সাফল্যও চোখে পড়েছে। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সঙ্গে দেশি কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীন, মোহাম্মদ আশরাফুল ও আশিকুর রহমানের যুগলবন্দি টাইগারদের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
জাতীয় দলের সিনিয়র প্রধান সহকারী কোচ হিসেবে গত দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর সালাউদ্দীন এখন হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের হেড কোচ হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুল এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিং কোচের দায়িত্বে থাকা আশিকুর রহমান দারুণ সফল হয়েছেন। তাদের অধীনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পাশাপাশি টাইগারদের ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে চোখে পড়ার মতো উন্নতি হয়েছে। ফিল্ডিংয়ে ক্ষিপ্রতা বাড়ার পাশাপাশি কঠিন সব ক্যাচ লুফে নিয়েছেন ফিল্ডাররা। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসায় ভাসছেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, যার ছোঁয়ায় ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা ও বড় ইনিংস খেলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
আশরাফুলের অধীনে খেলা আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে মোট চার টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটাররা সাতটি সেঞ্চুরি এবং এক ডজন হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এই চার টেস্টে দলের গড় স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং তিনবার ৪০০ বা তার বেশি রান করেছে দল। ওয়ানডে ফরম্যাটেও ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় এসেছে। নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও সাদমান ইসলামদের মতো ব্যাটাররা দারুণ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন। শান্ত গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরির পর এবার পাকিস্তানের বিপক্ষেও বড় ইনিংস খেলেছেন। মুশফিক, সাদমান ও মিরাজরাও তুলে নিয়েছেন ব্যক্তিগত শতক। পরিসংখ্যানই স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছে, দলে আশরাফুলের ইতিবাচক প্রভাব কতটা গভীর।
তবে নিজের এই অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে মোটেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নিজের সাফল্যের মূল্যায়ন তিনি নিজে করতে চান না, এটি ভক্ত ও বিশেষজ্ঞদের কাজ। তার মতে, জাতীয় দলের পর্যায়ে ব্যাটারদের টেকনিক নিয়ে খুব বেশি কাজ করার সুযোগ থাকে না; বরং তাদের মানসিকভাবে চাঙা রাখা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে সেরাটা বের করে আনাই প্রধান কাজ। গত সাত মাসে তার অধীনে দল দারুণ করলেও, আশরাফুলের আসল পরীক্ষা হতে যাচ্ছে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে। ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের সিরিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই হয়তো পুরোপুরি তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারবেন তিনি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





