বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: রাজধানীর মহাখালীস্থ কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এলেও, এর রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন এখন দৃশ্যমান। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে বস্তির শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে শত শত নারী, শিশু ও পুরুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আগুন নেভার পর আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর অধিকাংশই খামারবাড়ি মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ক্লান্ত শরীরে খোলা আকাশের নিচে যেখানে জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েছেন অনেকে। অধিকাংশ শিশু গায়ে থাকা ভেজা কাপড়েই শীতে কাঁপতে কাঁপতে ঘুমিয়েছে।
সাত বছর ধরে এই বস্তিতে বসবাস করা লাভলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আগুনে আমাদের সব হারিয়েছি। কিস্তিতে কেনা জিনিস, জমানো টাকা— সব শেষ। এখন আমাদের বাচ্চারা কোথায় ঘুমাবে? পানিতে ভেজার কারণে তারা শীতে কাঁপছে। আমরা সাহায্য চাই।”
ভ্যানচালক মহসিন আলী বলেন, “আগুন লাগার সময় ভাড়ায় গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি সব শেষ। পকেটে যে কয়টাকা ছিল, তা দিয়ে সন্তান আর বৃদ্ধ মায়ের খাবার কিনেছি। রাতে আমি কিছু খাইনি।”
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, বস্তির ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং পানির তীব্র সংকট থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ঘটনাস্থলে পৌঁছানো। বিপুল ভিড় ও সরু রাস্তার কারণে প্রথম ইউনিট পৌঁছাতেই ৩০-৩৫ মিনিট সময় লাগে, যার ফলে আগুন ‘ডেভলপ স্টেজে’ পৌঁছে যায়।
আগুনে সব হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলোতে এখন খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা অস্থায়ীভাবে খাবার ও পানি বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, অন্তত দুই হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






