সার আমদানি সংক্রান্ত পরিপত্রের নিয়ম কানুনকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে জিটুজির পদ্ধতিতে নিম্নমানের সার আমদানীর অভিযোগ উঠেছে বিএডিসির বিরুদ্ধে।
এছাড়া ভেজাল, নিম্মমানের সার আমদানীর নামে পাচার হচ্ছে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চায়নার বেসরকারী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ থেকে ৪ ধরণের গ্রেডের ডিএপি সার উৎপাদন করে থাকে। সেই কারণে ৬৪% সারের সাথে ৫৭% সার মিশানো সহজ হচ্ছে। আমদানীকৃত সার জাহাজীকরণের সময় চায়নার লোকাল কোম্পানী বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেড প্রতি ৪০ হাজার মেট্রিকটন সারের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন সার রাতের অন্ধকারে মিশ্রন করে জাহাজ লোড দিচ্ছে। জাহাজীকরণের সময় জাহাজের নিচে প্রথমে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন সার লোড করে। তার উপরে ২৫ থেকে ২৬ হাজার মেট্রিকটন ৬৪% নাইট্রোজেন ও ফসফেট সংযুক্ত সার লোড করে থাকে।
আগামী ৩০ অক্টোবর চায়না থেকে ৪৪ হাজার মেট্রিকটন আরো ৩টি জাহাজ নিম্নমানের সার নিয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। সরকারের উচিত এখই চায়নাতে যে সার জাহাজে লোড করা হচ্ছে সেটা বন্ধ করা। যদি বন্ধ করা না হয় তাহলে সেই সার ব্যবহার করলে দেশের প্রান্তিক চাষীদের ফসল উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ক্ষতি হবে।
বিএডিসির একজন কর্মকর্তা জানান, নিম্নমানের সার দেশে আসার মুল কারণ হচ্ছে কন্টিনেন্টাল ইন্সপেকশন কোং (বিডি) লিমিটেড নামক বাংলাদেশী একটি অখ্যাত এবং নিম্নমানের কোম্পানিকে ইন্সেপেকশনের জন্য নিয়োগ।
নাম সর্বত্র, অখ্যাত এবং নিম্নমানের কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু টাকা পাচারের সহযোগী না তারা দেশের ১৩ কোটি প্রান্তিক কৃষকের সাথে প্রতারণা করছে। আমদানি করা সারে ৫০% থেকে ৫৫% নাইট্রোজেন ও ফসফেট মেশানোর কারণে প্রতি মেট্রিকটনে ৯৫ থেকে ১শ ডলার এলসির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে নিচ্ছে। এছাড়া এই চক্রটি একই ভাবে তিউনেশিয়া এবং মরক্কো থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকার টিএসপি সার আমদানী করা হচ্ছে সেই সারের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য নাম সর্বত্র, অখ্যাত এবং নিম্নমানের কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ করা হয়েছে।
কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড নামক বাংলাদেশী দুর্বল ইন্সেপেকশন কোম্পানীটির মালিক মোহাম্মদ উল্লাহ। মোহাম্মদ উল্লাহ গত ১৫ বছরের বেশী সময় যাবত বিএডিসি এবং কৃষি মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত সারের এলসির মাধ্যমে এসব অনিয়ম, দূর্নীতি এবং দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।
মোহাম্মদ উল্লার ব্যবসায়ীক পার্টনার হলেন বিগত ফ্যাসিস আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের জামাতা মোঃ সাব্বির হোসেন। সাব্বির হোসেন বর্তমানে মালয়েশিয়াতে অবস্থান করে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। চায়নার আমদানী কারক এবং বিএডিসির মধ্যে মধ্যস্থাকারী হিসেবে কাজ করছে সাব্বির হোসেন। সাব্বির হোসেন বিদেশী আমদানীকারকদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা গ্রহণ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, চায়না, তিনেশিয়া, মরক্কো, কানাডা থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকার সার আমদানী করা হচ্ছে সেই সারের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য নামসর্বত্র, অখ্যাত এবং নিম্নমানের কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন দেয়া হয়েছে সেটা তদন্তের জোর দাবী উঠেছে।