আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। পবিত্র আশুরার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আজ শুক্রবার (১২ জুন) এক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন রাজধানী তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি।
এর আগে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতার এই রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। তবে পরিবর্তিত নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান এখন মহররমের দ্বিতীয় ১০ দিনের যেকোনো সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে তেহরানের মেয়র জানিয়েছেন। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে, বিশেষ করে শিয়াপন্থি ইরানে মহররমের ১০ তারিখ বা পবিত্র আশুরা অত্যন্ত শোক, গুরুত্ব ও আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করা হয়। প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে কারবালা ময়দানে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের এই পবিত্র দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই খামেনির দাফন পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, পরমাণু প্রকল্প নিয়ে চরম উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। ওই অভিযানের প্রথম দিনেই বিমান হামলায় স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিসহ নিহত হন গত ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলায় গুরুতর আহত হন তার ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি, যিনি বর্তমানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার ভূমিকা পালন করছেন। আলী খামেনির মরদেহ এখনো সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা আছে। রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই তার দাফন সম্পন্ন করা হবে এবং এই উপলক্ষে ইরানে তিন দিনের সরকারি শোক পালন করা হবে বলে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






