লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ভাত এবং রুটি—আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে হজম প্রক্রিয়া, অন্ত্রের সুস্থতা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। পুষ্টিবিদদের মতে, সাদা ভাত অত্যন্ত সহজপাচ্য কারণ এতে তন্তুযুক্ত তুষ থাকে না। ফলে যারা অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা দুর্বল হজমশক্তির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ভাত একটি আরামদায়ক বিকল্প; এটি দ্রুত হজম হয় এবং পেটে অস্বস্তি তৈরি করে না। অন্যদিকে, গমের তৈরি রুটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। তবে ফাইবার থাকার কারণে রুটি হজম হতে সময় নেয়, যা সংবেদনশীল পাকস্থলীর অধিকারীদের জন্য কিছুটা ভারী মনে হতে পারে।
রক্তে শর্করার প্রভাব বা গ্লাইসেমিক সূচক নিয়েও রয়েছে নানা ভ্রান্ত ধারণা। অনেকেই মনে করেন ভাত রুটির চেয়ে দ্রুত সুগার বাড়ায়। তবে ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম’-এর ২০২০ সালের একটি গবেষণা বলছে, পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে সাদা ভাত ও গমের রুটির গ্লাইসেমিক সূচক প্রায় একই সীমার মধ্যে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ভাত বা রুটি কোনোটিই এককভাবে দায়ী নয়; মূল বিষয়টি নির্ভর করে সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণ, রান্নার পদ্ধতি এবং খাবারের পরিমাণের ওপর। রুটির ফাইবার দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা দমিয়ে রাখতে সাহায্য করে, আবার ভাত প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত হওয়ায় অনেকের জন্য সহনীয়। তাই ওজন কমাতে চাইলে কার্বোহাইড্রেট বাদ না দিয়ে পর্যাপ্ত শাক-সবজি ও প্রোটিনের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






