লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: দাম্পত্য কলহের সময় স্বামীর হুট করে চুপ করে যাওয়া অনেক নারীরই পরিচিত এক অভিযোগ। বাইরে থেকে একে অবহেলা বা উদাসীনতা মনে হলেও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, এই নীরবতা সবসময় ভালোবাসার অভাব নয়, বরং এটি পুরুষদের মস্তিষ্কের একধরনের আত্মরক্ষার কৌশল।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষদের এই চুপ করে যাওয়ার পেছনে লজ্জা ও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় কাজ করে। ছোটবেলা থেকেই সমাজ পুরুষদের ‘শক্ত’ হতে শেখায়, ফলে নিজের দুর্বলতা বা কষ্টের কথা প্রকাশ করতে তারা কুণ্ঠাবোধ করেন। তর্কে জড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এই ভীতি থেকেও অনেকে নীরবতাকে বেছে নেন। এছাড়া স্ত্রীর অসন্তুষ্টিকে পুরুষরা নিজেদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন, যা তাদের মানসিকভাবে আরও গুটিয়ে ফেলে।
এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। ২০১০ সালে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র ঝগড়া বা মানসিক চাপের সময় পুরুষদের মস্তিষ্কের আবেগ ও সহমর্মিতা নিয়ন্ত্রণকারী অংশটি কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। তখন মস্তিষ্ক নিজেকে রক্ষা করতে একধরনের ‘বিশ্রাম’ বা শাটডাউন মোডে চলে যায়, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নীরবতায়।
নারীরা চাপের মুখে কথা বলে সমাধান চাইলেও পুরুষরা উল্টো আচরণ করেন, যা ভুল বোঝাবুঝি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বামীর নীরবতাকে নেতিবাচকভাবে না দেখে তাকে কিছুটা সময় ও স্পেস দেওয়া উচিত। নিরাপদ পরিবেশ পেলেই তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






