বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “নির্বাচনই একমাত্র বিকল্প— গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার। যত দ্রুত নির্বাচন হবে তত দেশের জন্য মঙ্গল।” তবে, তিনি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে বলেন, “পিআর এখন পর্যন্ত জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।”
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়ার্টার গার্ডেনে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ : জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে প্রধান উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা নিঃসন্দেহে অনেকেই হয়ত মনে করবেন যে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। কিন্তু এতেও তো দ্বিমত থাকতে পারে, অন্যমত থাকতে পারে। ডিজএগ্রিমেন্ট তো থাকবেই। সবাই কী একমত হবে, একমত হবে না।”
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে ‘প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে’ উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমি একটা কথা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, খুব জোরেশোরে বলতে চাই, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) এটা কিন্তু আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ কিচ্ছু বোঝে না।”
তিনি সম্প্রতি তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমার এলাকার মানুষ বোঝে না এসব। আমরা এখান থেকে রুমের ভেতরে বসে যতই এই ধরনের জিনিস চাপিয়ে দিতে চাই, তাতে কাজ হবে না।”
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, যাঁরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের পরে যে সমস্ত দল বা শক্তি এক সঙ্গে ফ্যাসিস্ট বিরোধী সংগ্রাম করেছি, তাদের সঙ্গে নিয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছি। এটা থেকে প্রমাণিত হয় আমরা আসলে এই জাতিকে সত্যিকার অর্থে মূল জায়গাগুলোতে ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর। আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






