স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি ফুটবল ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে চরম হতাশ প্যালেস্টিনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)। ফিফার এই নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত বা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের (সিএএস) দ্বারস্থ হয়েছে তারা। পিএফএ-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি আপিল করার এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলো নিয়মিতভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) পরিচালিত লিগে অংশ নিচ্ছে। এই ক্লাবগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিফার কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছে ফিলিস্তিন। কিন্তু গত মাসে ফিফা জানায়, আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীরের আইনি অবস্থান এখনও অমীমাংসিত। তাই তারা আইএফএ বা ওই ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
ফিফার এমন যুক্তি মানতে নারাজ ফিলিস্তিন। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) কংগ্রেস শেষে পিএফএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান শালাবি বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আলোচনার পরও ফিফা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা ফিফার ভেতরের সব আইনি পথই ব্যবহার করেছি। তাদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায়। তাই ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আমরা ক্রীড়া আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি এবং বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।” সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে তিনি জানান, গত ২০ এপ্রিল সিএএস-এ এই আপিল দায়ের করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিএএস বা ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ফিলিস্তিন, বিশেষ করে গাজার ফুটবলের বর্তমান শোচনীয় চিত্রও তুলে ধরেন সুসান শালাবি। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান, গাজায় ফুটবলের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। সেখানকার প্রতিটি ক্রীড়া অবকাঠামো হয় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, নয়তো পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পেশাদার ফুটবল লিগও এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের শত শত ফুটবলারকে হারিয়েছি, যাদের বেশিরভাগই ছিল নিরীহ শিশু। গাজায় এখন ফুটবল বলে কিছু অবশিষ্ট নেই, আর আমাদের দলগুলোর জন্য মাঠে নামাও এখন চরম বিপজ্জনক।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






