আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঢাকা: লোহিত সাগরে হুথিদের বেপরোয়া হামলা এবং ইরানের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বাত্মক যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও পবিত্র ভূমিকে নিজেদের ‘সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি’ দিয়ে রক্ষা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে এক নীতি-নির্ধারণী ভাষণে এ দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাঁর এই বক্তব্য আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা যেকোনো হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না। মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূখণ্ড এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে পাকিস্তান নিজেদের আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পাকিস্তান তার নৌ, বিমান ও পদাতিক বাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে সৌদি ভাইদের পাশে দাঁড়াবে।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৬৭ সাল থেকেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানেও সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শে শত শত পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা কাজ করছেন। প্রয়োজন দেখা দিলে রিয়াদের আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রন্টলাইনে সৈন্য মোতায়েন করা হবে।
ইসলামাবাদের এই কঠোর ও প্রকাশ্য ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই প্রকাশ্য সামরিক অবস্থান হুথি বিদ্রোহী ও তাদের সমর্থকদের জন্য একটি জোরালো সতর্কবার্তা।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












