বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: পর্দায় তিনি কখনো মমতাময়ী মা, আবার কখনো রাগী ও গম্ভীর। কিন্তু বাস্তব জীবনে ব্যক্তি দিলারা জামান কেমন মা? বিশ্ব মা দিবসের বিশেষ মুহূর্তে কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর জীবনের না বলা গল্পগুলো লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তাঁর ছোট মেয়ে জুবায়রা জামান চৌধুরী। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বিদেশে থাকলেও মায়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধন যে কতটা গভীর, তা ফুটে উঠেছে এই স্মৃতিচারণায়।
জুবায়রা জানান, তাঁর মা দিলারা জামান অত্যন্ত একগুঁয়ে ও কঠোর নীতিবান একজন মানুষ। মেয়েদের শাসনের মধ্যে বড় করলেও তাঁদের শিখিয়েছেন সততার অমূল্য শিক্ষা। জুবায়রা বলেন, “আম্মা ও আব্বা দুজনেই কোনোদিন লোভ-লালসা করেননি। ফলে আমরা খুব প্রাচুর্যের মধ্যে বড় না হলেও সব পরিস্থিতিতে সৎ থাকার শিক্ষা পেয়েছি।” সন্তানদের সময় দেওয়ার জন্য একটা সময় ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা দিলারা জামান থিয়েটার ছেড়ে দিয়েছিলেন। নিজের হাতে রান্না ও বাজার করা থেকে শুরু করে স্কুল সামলানো—সবটাই একা হাতে করেছেন এই গুণী শিল্পী।
মায়ের ওপর একটি বড় অভিমানের জায়গাও শেয়ার করেছেন জুবায়রা। পর্দায় যখন তিনি তাঁর সহ-অভিনেতাদের পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন বা আদর করেন, তখন জুবায়রার মন খারাপ হয়। কারণ বাস্তব জীবনে দিলারা জামান সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কিছুটা জড়তাসম্পন্ন ছিলেন। জুবায়রা মনে করেন, তাঁদের প্রজন্ম হয়তো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশকে ততটা জরুরি মনে করত না। তবে বিয়ের ১০ বছর পর মা হওয়ায় অন্য মায়েদের প্রতি দিলারা জামানের দরদ ছিল অপরিসীম। এমনকি আশিক নামের এক ছেলেকে আড়াই বছর বয়স থেকে নিজের সন্তানের মতো আগলে বড় করেছেন তিনি।
বর্তমানে দিলারা জামানের দুই মেয়েই দেশের বাইরে থাকেন। একা থাকার কষ্টের চেয়েও তাঁর বড় একাকিত্ব দূর করে তাঁর কাজ। বয়স আশি পার হলেও ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যা নিয়ে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মেয়ের মতে, এই কাজই তাঁকে সজীব রাখে। জুবায়রা আক্ষেপ করে বলেন, “আম্মা মাছ খুব ভালো রাঁধেন। তাঁর হাতের হালকা মসলার মাছের ঝোল খুব মিস করি।” দূর প্রবাসে থাকলেও মায়ের উদারতা, ত্যাগ আর অনাড়ম্বর জীবনবোধ আজও সন্তানদের এগিয়ে চলার প্রেরণা হয়ে আছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






