লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শীতকাল মানেই কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, পিঠা-পুলি আর উষ্ণতার আমেজ। কিন্তু যারা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এই ঋতুটি আনন্দের চেয়ে আতঙ্কের কারণ হতে পারে বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতে সর্দি-কাশির চেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া। তবে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে সচেতন থাকলেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
তাপমাত্রা কমে গেলে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে চায়। এই প্রক্রিয়ায় ‘সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হার্টে অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রবাহ কমে আসে। সরু নালী দিয়ে রক্ত পাম্প করতে হার্টকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়। এছাড়া ঠান্ডায় রক্ত ঘন হয়ে যায়, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি করে।
হৃদযন্ত্র সুরক্ষায় ৫টি কার্যকরী খাদ্যাভ্যাস:
১. স্মার্ট ডায়েট: শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। শাকসবজি, ফলমূল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হার্টকে শক্তিশালী করে।
২. ভালো চর্বি বা ওমেগা-৩: রান্নায় সূর্যমুখী বা চিনাবাদাম তেলের সঙ্গে সরিষার তেলের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া স্যামন বা সার্ডিন মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে। নিরামিষাশীরা আখরোট, চিয়া সিড বা তিসির বীজ খেতে পারেন।
৩. সাদা ভাতের বদলে আস্ত শস্য: পরিশোধিত শর্করা (সাদা ভাত, ময়দা) বাদ দিয়ে লাল চাল, ওটস, বার্লি বা গমের মতো ‘হোল গ্রেইন’ খাবার বেছে নিন। এতে থাকা ফাইবার কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৪. প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম: কাঠবাদাম, চিনাবাদাম বা আখরোটে থাকা ‘আরজিনিন’ রক্তনালী শিথিল করতে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
৫. রঙিন শাকসবজি ও ফল: টমেটোর লাইকোপিন বা বেরি জাতীয় ফলের অ্যান্থোসায়ানিন রক্তনালীকে শক্তিশালী করে। প্রতিদিনের খাবারের অর্ধেকটা অংশ জুড়ে থাকা উচিত বিভিন্ন রঙের শাকসবজি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






