লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: চুল আমাদের সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ, যেন মাথার মুকুট। অনেকেই চুলের যত্ন নিতে দামী সিরাম বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ ও লম্বা চুলের উৎপত্তি শরীরের ভেতর থেকেই। প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের সঠিক জোগান চুলের গোড়া মজবুত করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়, যা কোনো বাহ্যিক প্রসাধনী দিতে পারে না।
চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই খাবারে প্রোটিন বা পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল পড়া ও বৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত লম্বা ও মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে এই ৫ ধরনের খাবার:
১. উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার: চুল তৈরির মূল উপাদান প্রোটিন। এর ঘাটতি পূরণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, দই, পনির, মসুর ডাল, ছানা, রাজমা, মাছ এবং চর্বিহীন মাংস রাখা জরুরি। বিশেষ করে ডিমে থাকা বায়োটিন কেরাটিন উৎপাদনে সরাসরি ভূমিকা রাখে, যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
২. আয়রন ও শাকসবজি: চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছানোর জন্য আয়রন অপরিহার্য। আয়রনের অভাবেই মূলত চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। পালং শাক, মেথি শাক, সজিনা পাতা, এবং বিভিন্ন ডালজাতীয় খাবার আয়রনের দারুণ উৎস। শরীরে আয়রন শোষণ বাড়াতে এসব খাবারের সঙ্গে লেবু বা আমলকীর মতো ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
৩. ওমেগা-৩ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি: মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে স্বাস্থ্যকর চর্বি প্রয়োজন। সামুদ্রিক মাছ (যেমন স্যামন, ম্যাকেরেল), আখরোট, তিসির বীজ, এবং চিয়া সিড ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে। এছাড়া অ্যাভোকাডো ও বাদাম তেলে থাকা ভিটামিন ই চুলকে অক্সিডেটিভি ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
৪. বাদাম ও বীজের ম্যাজিক: প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম (কাঠবাদাম, কাজু, আখরোট) চুলের জন্য ‘বিউটি টনিক’ হিসেবে কাজ করে। এতে রয়েছে জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম, যা চুলের গোড়া শক্ত করে। অন্যদিকে কুমড়া ও সূর্যমুখীর বীজ চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৫. রঙিন ফল ও সবজি: গাজর, মিষ্টি আলু, পেয়ারা, কমলা ও বেরি জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিটা-ক্যারোটিন থাকে। এগুলো স্ক্যাল্প ভালো রাখে এবং কোলাজেন তৈরি করে চুলকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






