স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: চেনা ছন্দে ফিরে চমৎকার এক কভার ড্রাইভে এক্সট্রা কাভার ও মিড অফের মাঝ দিয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠালেন লিটন কুমার দাস। লাঞ্চ বিরতির পর মাত্র চতুর্থ বলেই তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। আর এই নান্দনিক ইনিংসের পথেই নিজের ৫৪ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়লেন এই ডানহাতি স্টাইলিশ ব্যাটার।
এর আগে এক টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে লিটনের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৯৩; যা তিনি ২০২২ সালের মে মাসে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিলেন (প্রথম ইনিংসে ১৪১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রান)। চলতি সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত ফিফটি ছোঁয়ার সাথে সাথেই তিনি আগের সেই ১৯৩ রানকে ছাড়িয়ে যান (১৯৪* রান)। লিটনের এই কীর্তির কিছুক্ষণ পরই ১০৩ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটি তুলে নেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
মিরপুর টেস্টে মাত্র ৩৩ ও ১১ রান করে খবরের শিরোনাম হওয়া লিটন সিলেটে যেন পুরোপুরি ভিন্ন এক রূপ ধারণ করেছেন। প্রথম ইনিংসে যখন ১০৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে, তখন তাঁর ১৫৯ বলে ১২৬ রানের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে ভর করেই ২৭৮ রান পায় স্বাগতিকরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের প্রয়োজনে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করলেন তিনি। আজ সোমবার (১৮ মে) ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে ৬৬ বলে ৪৮ রান করে প্রথম সেশন শেষ করেছিলেন। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় সেশনে মাঠে নেমেই নিজের খেলা প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে পঞ্চাশের ঘর স্পর্শ করেন তিনি।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে বিনা উইকেটে ২৬ রান তুলেছিল। মুমিনুল হক রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ায় দিনের খেলা শেষ হয়েছিল। আজ তৃতীয় দিনে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে সকালে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ১৩ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে নতুন দিনে ক্রিজে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম।
তবে দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। সকালের পঞ্চম ওভারেই ৪৬ বলে ১৫ রান করা শান্তকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পাকিস্তানি পেসার খুররম শাহজাদ। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি অধিনায়কের। শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। এরপর মুশফিক ও লিটন মিলে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে লিটনের একটি সিঙ্গেলের ওপর ভর করে বাংলাদেশের লিড ২০০ রান পার হয়। দুজনে মিলে প্রথম সেশনে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে লাঞ্চে যান। লাঞ্চ বিরতির আগে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৪৯ রানে, যা লাঞ্চের পর লিটন ও মুশফিকের জোড়া ফিফটিতে আরও পাহাড়সম সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





