বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: ঢালিউডের একসময়ের সাড়া জাগানো নায়ক ও প্রখ্যাত নৃত্যপরিচালক ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে বুধবার (২১ জানুয়ারি) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে কাজ করা এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে স্বামীর মৃত্যুর পর শোকের মধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্ত্রী ডলি চৌধুরী। জীবদ্দশায় যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো ধরনের সম্মাননা বা পুরস্কার তিনি গ্রহণ করবেন না।
ইলিয়ার জাভেদের মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও স্বামীর প্রতি ইন্ডাস্ট্রির অবহেলা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডলি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৫৫ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি খেয়ে না খেয়ে পরিশ্রম করেছেন। তার যা ছিল, সবই দিয়ে গেছেন। এখন তিনি নেই। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন—এটাই আমি চাই।’
মরণোত্তর পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘জীবদ্দশায় যেহেতু তিনি পুরস্কার পাননি, মৃত্যুর পর এসব দিয়ে তার কী হবে? কর্মস্থল থেকে যদি বেঁচে থাকতে মূল্যায়ন না করা হয়, তবে চলে যাওয়ার পর এসব সম্মাননা অর্থহীন। জাভেদ যা করেছে, তার বিনিময়ে আমি আর কোনো স্বীকৃতি চাই না।’
ষাট থেকে নব্বইয়ের দশক—দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন ইলিয়াস জাভেদ।
ষাটের দশকে কায়সার পাশা পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘মালান’-এ নৃত্যপরিচালক হিসেবে তার রুপালি জগতে যাত্রা শুরু হয়।
১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি’ ইত্যাদি।
‘নিশান’ সিনেমার ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’ গানটিতে তার অভিনয় ও নাচ তাকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি বর্ণিল ও দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






