আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আন্তর্জাতিক মহলের নানা প্রচেষ্টা এবং কথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি জারি থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও লেবাননে দফায় দফায় ভয়াবহ বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল রোববার (১৭ মে) দুই দেশের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও জনপদে চালানো পৃথক এসব হামলায় মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
গতকাল গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যগাজার দেইর আল-বালাহ শহরে। সেখানে একটি মানবিক সহায়তা দানকারী ‘কমিউনিটি কিচেন’ (গণরসুই)-এর ওপর সরাসরি বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল। এতে ঘটনাস্থলেই কিচেনের ৩ জন সেবাকর্মী নিহত হন।
গাজা নগরী থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি হিন্দ খোদারি জানান, এই হামলা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়— ইসরায়েল শুধু মানুষই নয়, গাজাজুড়ে অনাহারী সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে। এছাড়া খান ইউনিস ও বেইত লাহিয়াতেও নতুন করে একাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে হামাস। সংগঠনটির ভাষ্য, এটি গাজায় ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে চলমান গণহত্যারই আরেকটি নোংরা বহিঃপ্রকাশ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে গত বছরের অক্টোবর থেকে কাগজে-কলমে কার্যকর হওয়া কথিত যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৭১ জন। বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মাথায় দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ভারী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি ফাইটার জেট। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববারের এই হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী মূলত তায়র ফেলসাই, তায়র দেব্বা, আজ-জারারিয়াহ ও জেবশিত এলাকায় এই তাণ্ডব চালায়। এছাড়া জুয়াইয়া গ্রামে পৃথক আরেকটি বিমান হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের সোহমোর, রুমিন, আল-কুসাইবাহ, কাফর হুনাহ ও নাকৌরা গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
টায়ার শহর থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ওবাইদা হিত্তো বলেন, “দক্ষিণ লেবাননে আরও একটি ভয়াবহ ও সহিংস দিন কেটেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আমরা ঠিক উল্টো চিত্র দেখছি। ইসরায়েল হামলা আরও কয়েকগুণ জোরদার করেছে।”
এই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাঝেই গতকাল মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অহংকার প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখছে, সেগুলো পরিষ্কার করছে এবং নিজেদের জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এমন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে, যারা তাদের ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৯৮৮ জন নিহত এবং ৯ হাজার ২১০ জন আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ নতুন করে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হলেও গত ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া আগের যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কখনো পুরোপুরি আলোর মুখ দেখেনি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






