আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাকিস্তান সীমান্তে তেল চোরাচালানের সিন্ডিকেট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বুধবার (১৭ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এর মাত্রা এখন তীব্র। পাকিস্তানে ইরান থেকে আসা সস্তা জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চোরাকারবারিরা ইরান সীমান্ত থেকে ট্রাকে আসা তেল সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে প্লাস্টিকের কনটেইনারে ভরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে।
এই চোরাচালানের পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। মাজার নামের এক পাচারকারী জানান, তারা চরম বৈরী পরিবেশে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিন্ধু প্রদেশে জ্বালানি পৌঁছে দেন। অনেক সময় বেলুচিস্তানের ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তেলের ক্যানগুলো ফুলে নরম হয়ে যায়, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। এর ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষের ঝুঁকি তো রয়েছেই। এত বিপদের পরও বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাধ্য হয়ে মানুষ এই পথে হাঁটছেন। কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ফিদা হোসেন দস্তি জানান, কর্মসংস্থানের অভাবে এমনকি উচ্চশিক্ষিত তরুণরাও নিরুপায় হয়ে এই পেশায় জড়াচ্ছেন।
পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী জ্বালানি পাচার অবৈধ হলেও এটি পুরোপুরি ঠেকানো কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফাঁস হওয়া এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, প্রতি বছর ইরান থেকে পাকিস্তানে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পাচার হয়। ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম সীমান্ত এবং জটিল ভূ-রাজনীতির কারণে এটি বন্ধ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই চোরাচালানের সঙ্গে খোদ ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






