লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: পবিত্র রমজানে রোজা রাখা আত্মসংযম এবং শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধতার অনুশীলন হলেও, লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের জন্য দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা বেশ কষ্টকর হতে পারে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মমাফিক জীবনযাপন অনুসরণের মাধ্যমে লো প্রেসার থাকলেও সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে রোজা পালন করা সম্ভব।
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা এবং লবণের ঘাটতি দেখা দেয়, যা মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লো প্রেসারের উপসর্গগুলো বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্যাগুলো এড়াতে নিচের বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া জরুরি:
লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রোজাদারদের করণীয় ও সতর্কতা:
সেহরির আদর্শ খাবার: সেহরিতে এমন খাবার খেতে হবে যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে। ভাত, রুটি, ডাল, ডিম, দই, সবজি ও ফলমূল বেশ উপকারী। খাবারে পরিমিত পরিমাণ লবণের উপস্থিতি শরীরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে, তবে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে।
ইফতারের স্বাস্থ্যকর মেন্যু: খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙার পর স্যুপ বা ফলের মতো হালকা খাবার দিয়ে শুরু করা ভালো। ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম, কারণ এগুলো পেটে অস্বস্তি তৈরি করে ও দ্রুত দুর্বলতা বাড়ায়।
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ও পানি পান: পানিশূন্যতা রোধে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রচুর পানি পান করতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ওরাল স্যালাইন শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রেখে মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি দূর করে।
জীবনযাপনে সতর্কতা: হঠাৎ বসা থেকে দাঁড়ানো বা দীর্ঘ সময় কড়া রোদে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। ভারী ব্যায়াম থেকে বিরত থেকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা দুপুরে অল্প সময় ঘুম শরীরকে সতেজ রাখবে।
কখন রোজা ভাঙবেন: রোজা অবস্থায় যদি মাত্রাতিরিক্ত মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব, তীব্র দুর্বলতা বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত রোজা ভেঙে তরল বা খাবার গ্রহণ করতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ: যারা দীর্ঘদিন ধরে লো প্রেসারে ভুগছেন বা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের রোজা শুরুর আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি রুটিন তৈরি করে নেওয়া উচিত।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






