স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: ওয়ার্ম-আপের সময় হঠাৎ আঙুলে প্রচণ্ড আঘাত, পরীক্ষাও করলেন ফিজিও। এমন অবস্থায় সাধারণত মাঠের বাইরেই চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি যে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ! দলের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হার মানতে নারাজ বিশ্বকাপজয়ী এই আর্জেন্টাইন তারকা। শেষ পর্যন্ত ভাঙা আঙুল নিয়েই পুরো ম্যাচ খেললেন, আর অ্যাস্টন ভিলাকে জেতালেন পরম আরাধ্য ইউরোপা লিগের শিরোপা।
বুধবার রাতে ফাইনালে ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। আর এই জয়ের মাধ্যমেই দীর্ঘ ৪৪ বছর পর কোনো ইউরোপিয়ান ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল ইংলিশ ক্লাবটি।
ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ওয়ার্ম-আপ করার সময় আঙুলে চোট পান মার্তিনেজ। ফিজিওর প্রাথমিক চিকিৎসার পর ব্যথা নিয়েই গোলবার সামলাতে নেমে যান ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। পুরো ম্যাচে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে না হলেও দারুণ দুটি সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন তিনি। অন্যদিকে ইয়োরি টিলেমান্স, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এবং মরগান রজার্সের দুর্দান্ত তিন গোলে ফ্রাইবুর্গকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে উনাই এমেরির শিষ্যরা।
শিরোপা জয়ের পর নিজের ইনজুরি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্তিনেজ বলেন, “আজ ওয়ার্ম-আপের সময় আমি আঙুল ভেঙেছি। কিন্তু আমার জীবনে প্রতিটি খারাপ ঘটনা শেষ পর্যন্ত ভালো কিছু নিয়ে আসে। আমি সারা জীবন এভাবেই খেলেছি এবং এভাবেই খেলতে থাকব।”
ব্যথার তীব্রতা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না চোটটা কতটা গুরুতর। বল ধরার সময় মনে হচ্ছিল সবকিছু উল্টো হয়ে যাচ্ছে। তবে খেলোয়াড়দের এসব সহ্য করেই মাঠে নামতে হয়, আর আমি অ্যাস্টন ভিলার জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভীষণ গর্বিত।”
ম্যাচ শেষে আঙুলের ব্যথা ভুলেই বাঁধভাঙা উদ্যাপনে মেতে ওঠেন মার্তিনেজ। ভিলা সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি কোচ উনাই এমেরিকে কাঁধে তুলেও উদ্যাপন করতে দেখা যায় তাকে।
তবে মার্তিনেজের এই ইনজুরির খবর কিছুটা হলেও কপালে ভাঁজ ফেলেছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষকের চোট যেন খুব বেশি গুরুতর না হয়, এখন সেটাই প্রার্থনা করছেন কোটি কোটি আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






