লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন যেন প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গরমে টিকতে না পেরে সামর্থ্যবানরা এসি বা এয়ার কুলার কিনছেন। কিন্তু সবার পক্ষে তো আর ব্যয়বহুল এসি ব্যবহার করা সম্ভব নয়! এদিকে ভ্যাপসা গরমে রাতে শান্তিতে ঘুমানোও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কৃত্রিম উপায়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে, শরীর ও ঘর ঠান্ডা রাখতে প্রাচীন ও প্রাকৃতিক কিছু কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
চলুন জেনে নিই স্বস্তিদায়ক এমন ৬টি দারুণ উপায়:
গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে জানালা বা দরজায় খসখসের পর্দা ঝোলানোর প্রচলন বেশ পুরোনো। এই পর্দায় সামান্য পানি ছিটিয়ে দিলে সারা ঘরে চমৎকার এক সুগন্ধি ও স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি হয়। প্রাকৃতিকভাবে বাতাসকে শীতল করে ঘরের তাপমাত্রা কমাতে এই পদ্ধতি দারুণ কার্যকর।
কড়া রোদে বাইরে থেকে ফিরে ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির চেয়ে মাটির কলসি বা মটকার পানি পান করার শান্তিই আলাদা! বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাটির পাত্র প্রাকৃতিকভাবে পানিকে ঠান্ডা রাখে। পরিবেশবান্ধব এই প্রাচীন উপায়টি আজও শরীর ও প্রাণ জুড়াতে অতুলনীয়।
গরমে ঘাম ও রোদের কারণে অনেকেরই ত্বকে জ্বালাভাব ও অস্বস্তি দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চন্দন বাটা ব্যবহার করতে পারেন। কপালে বা ত্বকে চন্দনের প্রলেপ দিলে তা নিমেষেই শরীরকে শীতল করে স্বস্তি এনে দেয়।
শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে এক গ্লাস ঘোল বা বাটারমিল্ক রাখতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক ও ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ এই পানীয় হজমশক্তি বাড়ায়। পাশাপাশি ডিহাইড্রেশন ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও এটি বেশ উপকারী।
গ্রীষ্মকালের অত্যন্ত রিফ্রেশিং ও জনপ্রিয় পানীয় হলো আম পান্না। কাঁচা আম পুড়িয়ে তৈরি করা এই পানীয় শরীরে লবণের ঘাটতি মেটায়। তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে এই পানীয়ের জুড়ি মেলা ভার।
কড়া রোদের হাত থেকে ছাদকে বাঁচাতে অনেকেই ছাদে চুনের সাদা প্রলেপ বা হোয়াইট ওয়াশ ব্যবহার করেন। সাদা রং সরাসরি সূর্যের তাপকে প্রতিফলিত করে দেয়, ফলে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা প্রাকৃতিকভাবেই অনেকটাই কমে যায়। বর্তমান সময়ে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এই সাশ্রয়ী পদ্ধতিটি আবারও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




