লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: দৈনন্দিন জীবনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। এর কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ বা তাৎক্ষণিক সতর্ক সংকেত না থাকায় লিভার ধীরে ধীরে চর্বিতে ভরে যায়। রোগটি নিয়ে অনেকের মাঝেই গভীর উদ্বেগ কাজ করলেও আশার কথা হলো, সঠিক জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে কোনো ধরনের ওষুধ ছাড়াই শরীরকে এই সমস্যা থেকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
ফ্যাটি লিভার নিরাময়ে করণীয় ও এর পেছনের বিজ্ঞান:
ফ্যাটি লিভারের আসল কারণ: নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) মূলত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে ঘটে। শরীর যখন ইনসুলিনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দেয় না, তখন রক্তে অতিরিক্ত শর্করা জমে যায় এবং লিভার সেই শর্করাকে চর্বিতে রূপান্তরিত করে সঞ্চয় করতে শুরু করে।
ওষুধ প্রথম সমাধান নয়: প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাটি লিভারের জন্য ওষুধ প্রধান সমাধান নয়। লিভার অকার্যকর হয় মূলত নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে। তাই মূল কারণটি বুঝে জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে জরুরি।
ওজন কমানোর জাদুকরী প্রভাব: গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মাত্র ৭-১০ শতাংশ ওজন কমালে লিভারের চর্বি, প্রদাহ এবং এমনকি প্রাথমিক ক্ষতও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস নির্বাচন: অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট, চিনিযুক্ত পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এর বদলে গোটা শস্য, তাজা শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, অলিভ অয়েল এবং চর্বিহীন প্রোটিন (যেমন- মাছ ও ডাল) নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
ব্যায়াম, ঘুম ও মানসিক চাপ: লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে, কারণ এগুলো ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরে আরও বেশি চর্বি জমতে সাহায্য করে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






