বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: লিভার ও ফুসফুসের তীব্র জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দিবাগত রাতে চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর অকাল মৃত্যু হয়।
কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। মেয়ের মৃত্যুর পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে কায়সার হামিদ লিখেন,
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা (kaarina kaisar) একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। শুরুতে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে হলেও পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং তিনি ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ‘ই’-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে এবং গত শুক্রবার তাঁর লিভার ফেইলিউর (যকৃৎ বিকল) হয়।
অবস্থা চরম সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রথমে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিএমসি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
চিকিৎসার শেষ মুহূর্তের বিষয়ে কায়সার হামিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি ও চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন কারিনা কায়সার। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে দেশের বিনোদন অঙ্গন এবং তাঁর লাখো ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





