বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার মুরগিটোলা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মুরগিটোলা মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম মুরগিটোলা এলাকায় ভাড়া থাকেন। বাসার পানির লাইন মেরামতের জন্য তিনি বাড়িওয়ালাকে টাকা দিলেও কাজ শেষে প্লাম্বার মাইকেল আবার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাইকেল আজহারুলের জুতা নিয়ে চলে যান। জুতা ফেরত চাইতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। আজহারুলের অভিযোগ, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এসে তাকে মারধর করলে তার মাথা ফেটে যায়।
খবর পেয়ে আজহারুলের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আশিককে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের মধ্যে লিমন ইসলাম ও অপূর্ব রায় নামের দুই সাংবাদিক রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা পুলিশের এই লাঠিপেটার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে না থাকায় ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বাঁশ নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া দিতে এলে আত্মরক্ষায় পুলিশ লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. নাসির উদ্দীন জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন যে শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছ থেকে একজনকে ছিনিয়ে নিয়ে মারার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিপেটা করে। আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






