বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: বাজারমূল্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ না করে মেট্রোরেল প্রকল্পের বিভিন্ন ঠিকাদারি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে বিপাকে পড়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। দরপত্রে অনেক ‘অসংগতিপূর্ণ’ ও ‘অবাস্তব’ শর্ত থাকায় প্রাক-প্রাথমিক আলোচনায় আগ্রহ দেখানো আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামগুলো শেষ পর্যন্ত সরে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি-১-এর ব্যয় ও মেয়াদ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন প্যাকেজে জটিলতা ও ঠিকাদারদের অনীহা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমআরটি-১ প্রকল্পের বিভিন্ন কন্ট্রাক্ট প্যাকেজে (সিপি) নানা অব্যবস্থাপনার তথ্য উঠে এসেছে:
সিপি-৩: জাপানের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে প্রি-কোয়ালিফাইড করা হলেও ‘অবাস্তব শর্তাবলি’ ও ‘ভুল বাজার বিশ্লেষণের’ কারণে তারা দরপত্রে অংশ নেয়নি। তিন বছর পেরোলেও এই প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া এগোয়নি।
সিপি-৪ ও সিপি-৬: সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দর-কষাকষি চললেও এখনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি এবং জাইকার অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
সিপি-৫: সর্বনিম্ন দরদাতা জাপানের কাজিমা করপোরেশন ৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েও সরে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রার দরপতনের কারণে তারা দরপত্রের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায়।
সিপি-৯: মূল ট্র্যাক নির্মাণের এই প্যাকেজে সর্বনিম্ন দরদাতা সুমিতুমি জয়েন্ট ভেঞ্চার সরে যাওয়ায় ডিএমটিসিএল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যাদের দর প্রথম দরদাতার চেয়ে ৭১ শতাংশ বেশি।
অন্যান্য প্যাকেজ: সিপি-৭, ৮ ও ১০-এর মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সিপি-১১ ও ১২-এর দরপত্র প্রক্রিয়াও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে।
অস্বাভাবিক ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি-১-এর প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। এখন তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছে ডিএমটিসিএল। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পটির ১২টি প্যাকেজের মূল আনুমানিক ব্যয় ৩৭ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন ৮০ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডিএমটিসিএল ও পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দর পাওয়া এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর এটি হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা এসব জটিলতার বিষয়ে ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরীফী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব (পরিবহন উইং) মো. আলী রেজা সিদ্দিকী জানান, প্যাকেজগুলোর দর পুনর্মূল্যায়ন করে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হবে। পুরো প্রকল্পের ১২টি প্যাকেজই পুনর্মূল্যায়ন করতে হতে পারে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












