লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে আমরা অনেকেই রোদে পিঠ এলিয়ে দিতে পছন্দ করি। তবে কেবল আরাম নয়, শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভিটামিন ডি তৈরির জন্যও এই সূর্যের আলো অপরিহার্য। বিশ্বজুড়ে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি একটি বড় সমস্যা, আর শীতকালে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
ঠান্ডার দিনগুলোতে সূর্যের অবস্থান এবং বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের কারণে রোদের তেজ কমে যায়। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে রোদে বসার সঠিক সময় এবং নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি।
রোদ পোহানোর সঠিক সময় বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে সূর্য থেকে সর্বোচ্চ ভিটামিন ডি পাওয়ার সেরা সময় হলো সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
শীতের ভোরে এবং শেষ বিকেলে সূর্যের রশ্মি খুব বাঁকাভাবে পৃথিবীতে আসে। ফলে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আসার সময় এর কার্যকারিতা কমে যায়। কিন্তু দুপুরের দিকে সূর্যের UVB রশ্মির তীব্রতা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে, যা ভিটামিন ডি উৎপাদনে সহায়তা করে।
গ্রীষ্মকালের তুলনায় শীতকালে বেশিক্ষণ রোদে থাকা প্রয়োজন। শরীরের মুখ, বাহু বা পা উন্মুক্ত রেখে ২০ থেকে ৪০ মিনিট সরাসরি রোদে থাকলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব।
ত্বকের রঙের ওপর সময়ের ভিন্নতা গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের রঙের ওপর ভিত্তি করে রোদ পোহানোর সময়ে ভিন্নতা রয়েছে:
ফর্সা ত্বক: ১৫ থেকে ২০ মিনিটই যথেষ্ট।
শ্যামলা বা কালো ত্বক: মেলানিন প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন বা ইউভি ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, তাই তাদের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হতে সময় বেশি লাগে। তাদের ক্ষেত্রে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রোদে থাকা প্রয়োজন হতে পারে।
শীতে কেন ঘাটতি হয়? শীতকালে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে যায়, ফলে UVB রশ্মির তীব্রতা কমে যায়। এছাড়া কুয়াশা, মেঘ, দূষিত বায়ু এবং শীতের মোটা পোশাক সূর্যের আলোকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়। যারা ঠান্ডার ভয়ে ঘর থেকে বের হন না, তাদের ঘাটতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
খাবার ও পরিপূরক শুধু রোদের ওপর নির্ভর না করে শীতকালীন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত।
উৎস: ডিমের কুসুম, ফর্টিফাইড দুধ, মাশরুম, এবং সামুদ্রিক মাছ।
সাপ্লিমেন্ট: যদি খাবারে এবং রোদেও ঘাটতি পূরণ না হয় এবং তীব্র অভাব দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






