বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই অভূতপূর্ব ‘টিকিট যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ) ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি টিকিটের বিপরীতে গড়ে ৩৯৩ জন মানুষ অনলাইনে চেষ্টা চালিয়েছেন।
আজ ১৩ মে দেওয়া হচ্ছে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১৫ মিনিটেই সাড়ে ১২ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। সকাল ৯টার মধ্যে ২০টি ট্রেনের ১৫ হাজার ২৬৬টি আসনের বিপরীতে ১৫ হাজার ৪৩টি টিকিট উধাও। টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রথম আধা ঘণ্টায় প্রায় ৬০ লাখ ‘হিট’ বা ক্লিক পড়েছে, যা ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের বিপুল চাহিদারই প্রতিফলন।
অন্যদিকে, রেলের পূর্বাঞ্চলের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে আজ দুপুর ২টা থেকে। এই জোনের ২৩টি ট্রেনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৫ হাজার ৯৭৪টি টিকিট। পূর্বাঞ্চলের টিকিটের জন্যও ওয়েবসাইটে একই ধরনের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ট্রেনগুলোতে এসি কামরার টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
রেলওয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে’র অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে। ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে। বরাবরের মতো এবারও ১০০ ভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারলেও তা ফেরত দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।
টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে। যাত্রার দিন স্টেশনের কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ ‘স্ট্যান্ডিং’ বা দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হবে। তবে এই টিকিট দিয়ে এসি বা উচ্চ শ্রেণির কোচে যাতায়াত করা যাবে না।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন (ঈদ স্পেশাল) চালানোর ঘোষণা দিয়েছে রেলওয়ে। যার মধ্যে রয়েছে ‘তিস্তা স্পেশাল’, ‘চাঁদপুর স্পেশাল’ ও ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য ২২ ও ২৩ মে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর বাজার থেকে ঢাকা অভিমুখে দুটি ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেন চলাচল করবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






