বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আগে থেকেই কারাগারে থাকা সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে এবার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই আদেশ শোনার সময় আদালতের কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন আলোচিত এই সাংবাদিক।
এদিন বেলা ১১টায় আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হয় এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনি কাঠগড়ায় ছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। আইনজীবী নিয়াজ উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘একজন সাংবাদিক জেলখানায় অথচ কেউ কিছু লেখেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার নেই। বিনা কারণে তাকে জেলহাজতে আটক রাখা হয়েছে। একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করা হয়নি।’ এ সময় তার আইনজীবী নাজনীন নাহার তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘এসব মিথ্যা মামলা। আপনাকে শক্ত হতে হবে।’ পরে তাকে কাঠগড়া থেকে মহানগর হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুনানিকালে আইনজীবী নাজনীন নাহার আদালতকে জানান, মামলায় আনিস আলমগীরের যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সঠিক নয় এবং তিনি সেখানে বসবাস করেন না।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবরসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয়, টক শো ও কনসালটেন্সি, প্লট বিক্রি এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১৫ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






