আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে এক পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ের গোপন নথির বরাতে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের কৌশলগত সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে সর্বাত্মক আঘাত হানার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
সামরিক সূত্রে জানা গেছে, লোহিত সাগর ও ওমান সাগরে ইতিমধ্যে অবস্থান নিয়েছে দুটি মার্কিন পরমাণুচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। পেন্টাগন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন কারখানা, বাঙ্কার-বাস্টিং প্রযুক্তির আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রোন ঘাঁটি এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতেই এই সমন্বিত আকাশ ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছক আঁকা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন এই রণসজ্জার কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তেহরানের সামরিক অধিনায়করা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরান গ্রহণ করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিমেষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হবে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, মার্কিন নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান যেকোনো মুহূর্তে বিশ্বকে তৃতীয় মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারে। সংঘাত এড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব দেশগুলো পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












