বাংলাফ্লো প্রতিবেদক ঢাকা: দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘এনকাউন্টার’ এবং ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর নামে বিগত ২২ বছরে দেশজুড়ে অন্তত ২ হাজার ৯৫৭ জন ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে এক শিউরে ওঠা ও লোমহর্ষক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলো। সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এক বিতর্কিত বক্তব্যের পর এই বর্বরোচিত পরিসংখ্যান নতুন করে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অধিকারের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দাগি অপরাধী, মাদক কারবারি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের নামে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, সাধারণ ব্যবসায়ী এবং বহু নিরীহ ব্যক্তি ছিলেন, যাদের আইনের আওতায় এনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি।
আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী, টিআইবি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাই ছিল আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; কোনো অবস্থাতেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা যাবে না।
মানবাধিকারকর্মীরা অবিলম্বে প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ
🏷️ ট্রেন্ডিং ট্যাগ (১০-১৫টি):












