স্পোর্টস ডেস্ক ঢাকা: ফরাসি ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের চালু করা বিশেষ ‘বোট’ (BOAT – Ballon d’Or of All Time) ভোটে লিওনেল মেসিকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে শীর্ষে অবস্থান করছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে এই ভোটাভুটির ফলাফলের চেয়েও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এর বিতর্কিত ভোটিং পদ্ধতি। টাকা খরচ করে একজন ব্যক্তির একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় ফলাফলের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ফুটবল ইতিহাসের সাত দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজকরা ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ নামের এই বিশেষ ডিজিটাল পোল চালু করেছেন। এখানে কোনো ফুটবলারের সামগ্রিক ক্যারিয়ারের বদলে তাঁদের ব্যালন ডি’অর জয়ী সেরা মৌসুমগুলোকে বিচার করা হচ্ছে। যাঁরা ক্যারিয়ারে অন্তত দুবার বা তার বেশি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, কেবল সেই ১০ জন কিংবদন্তিই এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি, মার্কো ফন বাস্তেন, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার, আলফ্রেদো দি স্তেফানো, কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগে ও কেভিন কিগান।
বিতর্কের মূল কারণ হলো, ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিটি ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারকে ১ ইউরো করে খরচ করতে হচ্ছে এবং একজন ব্যক্তি যতবার খুশি টাকা দিয়ে ভোট দিতে পারছেন। আয়োজকদের দাবি, এই অর্থ মূলত একধরনের অনুদান এবং এর বিনিময়ে ভোটাররা দুর্লভ ছবি ডাউনলোড, ব্যালন ডি’অর কমিউনিটির সদস্যপদ এবং ২০২৭ সালের মূল অনুষ্ঠানের টিকিটের লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, ভোটের সংখ্যায় কোনো সীমা না থাকায় যার কাছে টাকা বেশি, সেই নিজের পছন্দের তারকাকে অসংখ্যবার ভোট দিয়ে জিতিয়ে দিতে পারেন; যা প্রকৃত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন নয়।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ জেতা রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুমটি একাই পেয়েছে ৬২ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯১ গোলের রেকর্ড গড়া মেসির ২০১২ মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ এবং বিশ্বকাপ জেতানো ২০২৩ মৌসুম পেয়েছে ১০ শতাংশ (বা ৯ শতাংশ) ভোট। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ক্লারিন’ জানিয়েছে, মেসি আটবার পুরস্কারটি জেতায় তাঁর ভক্তদের ভোট বিভিন্ন মৌসুমের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, আর রোনালদোর ভক্তরা ২০০৮ মৌসুমকে ঘিরেই এককাট্টা হয়ে ভোট দিচ্ছেন। তাছাড়া মোট কতজন ভোটার ভোট দিয়েছেন, সেই সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে আলফ্রেদো দি স্তেফানো যে ‘সুপার ব্যালন ডি’অর’ জিতেছিলেন, সেখানে পাঠক, সাবেক বিজয়ী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের স্বচ্ছ ভোট ছিল। এবারের অর্থের বিনিময়ে সীমাহীন ভোটের নিয়ম তাই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্যারিস সময় আগামী ২৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে এই ভোটগ্রহণ শেষ হবে এবং ২৮ অক্টোবর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










