বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: চরম দারিদ্র্য ও ঋণের বোঝা সইতে না পেরে গর্ভের অনাগত সন্তানকে বিক্রি করতে চাওয়া অসহায় গৃহবধূ আঁখির পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ শিরোনামে একটি মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলা আঁখির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ এবং অভাবের তাড়নায় তিনি নিজের গর্ভের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই হৃদয়বিদারক সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পরপরই প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই তিনি মানবিক বিবেচনায় পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এজন্য তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আঁখি ও তাঁর পরিবারের সন্ধান বের করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আঁখির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা এবং সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি বিপুল ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে। পাওনাদারদের সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করার কোনো উপায় না দেখেই চরম অসহায়ত্ব থেকে গর্ভের সন্তান বিক্রি করার মতো কঠিন ও মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন আঁখি।
পুরো পরিস্থিতি জানার পর অসহায় পরিবারটির সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আঁখি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে পরিবারটির হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আঁখির সন্তান প্রসবের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করার পাশাপাশি পরিবারটির স্থায়ী আয়ের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












