তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক মামলায় ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের জোটের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। এই সমঝোতার আওতায় মেটাকে ১ হাজার ৮০০ কোটি (১৮ বিলিয়ন) ডলার দিতে হবে এবং শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বেশ কিছু নতুন বিধিনিষেধ চালু করতে হবে। আগামী ১০ বছর ধরে এই অর্থ পরিশোধ ও শর্ত মেনে চলতে হবে, তবে মেটা কোনো ধরনের আইন ভঙ্গের কথা স্বীকার করেনি।
সমঝোতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শিশুদের জন্য মেটার প্ল্যাটফর্মে আসতে যাওয়া পরিবর্তনগুলো। শিশু ও কিশোরদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে মেটা যেসব নতুন ব্যবস্থা চালু করবে:
ব্যবহারের সময়সীমা: শিশুদের অ্যাপ ব্যবহারে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার সীমা নির্ধারণ করা হবে।
বিরতির বার্তা: ব্যবহারকারীদের প্রতি ১৫ মিনিট পরপর বিরতি নিয়ে সচেতনভাবে অ্যাপ ব্যবহারের জন্য সতর্কবার্তা দেখানো হবে।
রাতের শাটডাউন: অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী হিসেবে শনাক্ত হলে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি বন্ধ: স্কুল চলাকালীন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সব ধরনের নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি বন্ধ রাখা হবে।
লাইক গোপন রাখা: কিশোরদের নিজেদের ও অন্যদের পোস্টে কতটি লাইক পড়েছে, তা ডিফল্টভাবে দেখা যাবে না।
এসব নিয়ম কার্যকরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মেটার বয়স যাচাই প্রযুক্তি। কারণ কোনো ব্যবহারকারী শিশু নাকি প্রাপ্তবয়স্ক, তা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে মুখমণ্ডলের ছবি, সরকারি পরিচয়পত্র বা আচরণ বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে, যার প্রতিটিরই নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সিরাকিউস বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক অধ্যাপক অ্যালেক্সিস ইংবার মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেন ঝুঁকিতে না পড়ে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইনজীবী ফিলিপ ইয়ানেলার মতে, বয়স যাচাই প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত হয়েছে। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ না করেও বিশেষ সংকেতের (টোকেন) মাধ্যমে বয়স যাচাই করা সম্ভব। তারপরও বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, তথ্য আদান-প্রদানের সময় শিশুদের সংবেদনশীল পরিচয়পত্র বা মুখমণ্ডলের তথ্য ফাঁস হলে পরিচয় চুরির মতো গুরুতর ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মেটা এই সমঝোতায় পৌঁছাল। নিজেদের শিশু নিরাপত্তা উদ্যোগকে সামনে এনে প্রতিষ্ঠানটি এখন টিকটক ও ইউটিউবকেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










