আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধাভিযানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনা ও হুঁশিয়ারির পর গতকাল সোমবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই বিশেষ ও কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমাদের এ অভিযানের লক্ষ্য হলো তেহরানে ক্ষমতাসীন স্বৈরাচার সরকারের প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন কেটে দেওয়া। যতদিন পর্যন্ত তেহরান সম্পূর্ণ একা না হচ্ছে, ততদিন এ অভিযান চলবে। আমরা আর ইরানি হুমকি সামাল দিতে চাই না; এটি চিরতরে শেষ করতে চাই। আর ইরানের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, শুধু তেল নয়, বরং ইরানের বিমান চলাচল, জাহাজ চলাচল, প্রযুক্তি, স্বর্ণের খনি ও ডিজিটাল সম্পদসহ তেহরানের প্রতিটি লাইফলাইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার শিকার হবে। ইতোমধ্যে গত কয়েক দিনে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে ৬০ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তেহরানের মিত্রদের সতর্ক করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানের তেলকে অর্থে রূপান্তরিত করার ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবার ওপর পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট চলাকালে তেহরানের কোনো মিত্রকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউ নেই।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা তেল চোরাচালান ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত প্রতিটি নেটওয়ার্কের মানচিত্র তৈরি করেছেন। এখানে ‘জিরো লিকেজ’ নীতি অনুসরণ করা হবে, যাতে ইরান ঘুরে দাঁড়ানোর একটুও সুযোগ না পায়।
যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে তারা অংশীদারিত্বের সুফল ভোগ করবে, আর যারা পাশে থাকবে না তারা ক্ষয়িষ্ণু শাসনের পরিণামের অংশীদার হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












